Get Inspiration

একটি মাত্র সিদ্বান্তের উপর অটুট না থেকে সিদ্বান্ত টা পরিবর্তন করলে সফলতা বেড়ে যায়

মানুষ যদি একটি সিদ্বান্তের প্রতি অটুট না থেকে তার সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে,তাহলে তার সফলতার হার যে বেড়ে যায়, এই লেখায় সে সম্পর্কে আলোচনা করব।

*প্রাচীন গ্রিকে “মাউন্টি হল মার্কস” নামে এক ব্যাক্তি ছিলেন। যিনি প্রতি বছর একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। প্রতিযোগিটি এরকম, “তিনটি পৃথক পৃথক দরজার পিছনে তিনটি বাক্স রাখা আছে। এ তিনটি বাক্সের মধ্যে
যেকোন একটি বাক্সে পুরস্কার আছে এবং কোন বাক্সে পুরস্কারটি আছে, এ কথাটা শুধু উপস্থাপক জানতেন। এখানে, একজন প্রতিযোগী যেকোন একটি দরজা নির্বাচন করতে পারবেন এবং এখানে উপস্থাপক প্রতিযোগিকে একটু
হেল্প করতে, বাক্স খোলার আগে তাকে একটা ক্লু বা তথ্য দিবেন। এবং তথ্যটি হলো, তিনি অন্য এমন একটি দরজার মধ্যে রাখা বাক্স খুলে দেখাবেন, যে দরজার বাক্সে কোন পুরস্কার নাই। তারপর, তখন উপস্থাপক প্রতিযোগিকে জিজ্ঞেস করবেন যে, প্রতিযোগি দরজা পরিবর্তন করবে কি না?

এখানে, দুটি ঘটনা ঘটতে পারে-
(১)প্রতিযোগি দরজা পরিবর্তন করবে না এবং
(২) দরজা পরিবর্তন করবে।

চলো দেখা যাক, কোন ক্ষেত্রে সাফল্য কতটুকু তার একটা গাণিতিক ব্যাখ্যা করে আসি। ব্যাখ্যাটি সহজে বুঝতে, প্লিজ একটু খাতা-কলম নিয়ে বসো। নতুবা, একটু সমস্যা হতে পারে। কারণ, এখনে একটু-আকটু গুণ-ভাগ করা লাগতে পারে। মনোযোগ দিয়ে পড়লে অবশ্য বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারবে।

প্যাঁচাল না পেরে চলো ব্যাখ্যায় যাই।

*ধরা যাক, A, B ও C তিনটি দরজা এবং আরও ধরা যাক, তিনটি দরজার মধ্যে A দরজাটির বাক্সে পুরস্কার রাখা আছে।
ক্ষেত্র-১:
এখন, একজন প্রতিযোগি A দরজাটিতে ঢুকল। তখন শর্ত মোতাবেক উপস্থাপক তাকে এমন একটি দরজা খুলে দেখাবেন, যে দরজাটির বাক্সে কোন পুরস্কার নাই। প্রতিযোগী যখন A দরজা নির্বাচন করবে তখন, শর্ত অনুযায়ী উপস্থাপক B অথবা C দরজাটি খুলে দেখাবেন; কেননা এ দুটি
দরজাটির বাক্সেই কোন পুরস্কার রাখা নাই। ধরুন, উপস্থাপক C দরজাটি খুলল। এতে প্রতিযোগী নিশ্চিত হলো পুরস্কারটি A অথবা B তে আছে। এরপর, উপস্থাপক প্রতিযোগিকে প্রশ্ন করল, “আপনি কি দরজা পরিবর্তন করবেন?” মানে, A থেকে B তে যাবেন?
যেহেতু, উপস্থাপক ছাড়া অন্য কেউই জানতেন না যে, পুরস্কারটি কোন দরজায় আছে। তাই, এখানে প্রতিযোগি হয়, দরজা চেঞ্জ করবেন অথবা, চেঞ্জ করবেন না।

সিদ্ধান্ত-১:
ধরি, প্রতিযোগি দরজা চেন্জ করবেন না। তাহলে, সে জিতল। কেননা, A দরজাটিতে পুরস্কার ছিল। সফলতার হার ১০০%।

ক্ষেত্র-২:

এখন, যদি প্রতিযোগী প্রথমে A তে না গিয়ে B তে যায়। তাহলে, উপস্থাপক অবশ্যাই C দরজাটি খুলবেন। কেননা, A তে পুরস্কারটি আছে। কারণ- শর্তমতে, উপস্থাপক প্রতিযোগীর দরজা বাদে
এমন দরজা খুলবেন যেখানে পুরস্কার নাই। এক্ষেত্রে, প্রতিযোগী যেহেতু তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না, অর্থাৎ দরজা চেঞ্জ করবেন না,তাই এবার সে হারল। কেননা, পুরস্কারটি A তে ছিল। এক্ষেত্রে ব্যর্থতার হার ৩৩.৩৩%।

ক্ষেত্র-৩:
আবার, প্রতিযোগী প্রথমে A ও B তে না গিয়ে যদি C তে যায়, তবে শর্ত অনুযায়ী,উপস্থাপক এবার B দরজাটিতে খুলবেন এবং একই প্রশ্ন আবার করবেন। যেহেতু, প্রতিযোগী দরজাটি পরিবর্তন করবেন না, তাই সে এবারও হারল!! এবারও তার ব্যর্থতার হার ৩৩.৩৩%।
সুতরাং প্রতিযোগীর সফলতার মোট
হার=
{১০০-(৩৩.৩৩+৩৩.৩৩)}=৩৩.৩৩%।

সিদ্ধান্ত-২:
এবার, অনুরুপভাবে অন্য আরেকজন প্রতিযোগির কথা চিন্তা করে দেখো, যে কিনা প্রতি ক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্তটা চেঞ্জ করবে।
তাহলে, প্রথম ক্ষেত্রে সে হারবে। কেননা, পুরস্কারটি A তেই ছিল। তাই ব্যর্থতার হার ৩৩.৩৩%।
আবার, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কিন্তু সে জিতবে। এর ব্যাখ্যা দেই, প্রতিযোগি যখন B তে ঢুকবে, উপস্থাপক তখন C খুলে দেখাবে। যেহেতু, প্রতিযোগি তার সিদ্বান্ত চেঞ্জ করবে, তাই সে B হতে A তে যাবে। অর্থাৎ সে জিতবে। মানে
সফলতার হার ৩৩.৩৩%।
অনুরুপভাবে তৃতীয় ক্ষেত্রেও কিন্তু প্রতিযোগি জিতবে। কেননা, প্রতিযোগি যখন C তে যাবে, উপস্থাপক তখন শর্ত অনুযায়ী B খুলবে। যেহেতু
প্রতিযোগি তার সিদ্বান্ত চেঞ্জ করবে,
তাই সে C হতে A তে যাবে। অর্থাৎ সে জিতবে।
এক্ষেত্রে সফলতার হার ৩৩.৩৩%।
সুতরাং, মোট সফলতার হার= ৬৬.৬৭%।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, হল মার্কসের সেই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতায় যারা তাদের সিদ্বান্ত পরিবর্তন করত তারাই সাকসেস হতো।

অতএব, এতক্ষণ বগ-বগানি শেষে আমরা এই সিদ্বান্তে উপনিত হতে পারি যে, একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের প্রতি অটুট না থেকে যদি
সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করা যায়, তবে সফলতার হার দ্বিগুন পরিমাণে বেড়ে যায়।
হ্যা, এটা সত্য যে, লক্ষ্য তো যেকোন
একটা হওয়াই ভালো। কিন্তু, যখন তুমি তোমার লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থ হবে তখন
কি করবে? তখন কি ঐ লক্ষ্যতেই অটুট
থাকবে? ভেঙ্গে পড়বে? হতাশ হবে? নাকি লক্ষ্যটা চেঞ্জ করবে?
এটা তুমি নিজেই ডিসাইড করো।

এই থিওরিটা কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্যেই সত্য। প্রেমে ছ্যাকা খাওয়া হিরোরাও কিন্তু আমার এই লেখা থেকে একটু সান্ত্বনা পেতে
পারো। ছ্যাঁকা খাইয়া নিজের মূল্যবান জীবন নষ্ট না করে, সিদ্ধান্ত বদলাও। ইন-শাহ্-আল্লাহ, সফলতা পাবে।

আমার এই লেখাটি মুলতঃ এডমিশন পরীক্ষার্থীরা যারা আছে, সেই মহান বীরদের জন্যে রচিত। কেননা, তারা কেউ বুয়েট, কেউ মেডিকেল, কেউ বা ঢাকা ভার্সিটি করে করে চিল্লাচ্ছে। কিন্তু, যখন তারা নিজের সিদ্ধান্তে পৌছাতে ব্যর্থ হয়, তখন হতাশার নিষ্ঠুর আগুনে পুরে জর্জরিত হয়। আমি বলছি না যে, বুয়েট-মেডিকেল-ঢাকা ভার্সিটি কারও লক্ষ্য হওয়া খারাপ কিছু। কিন্তু,
কোন কারণে যদি এই তিনটা না হয়? তবে?

তোমরা যারা ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে এক্সাম দিবে কিংবা যারা সেকেন্ড টাইমাররা আছো, তাদের বলছি- তোমাদের সামনে যদি এ ধরনের সিচুয়েশনের সৃষ্টি হয়, তবে নিজের ওই পুরনো সিদ্বান্তের প্রতি অটুট না থেকে সিদ্বান্ত টা পরিবর্তন করো। ভেঙ্গে না পরে, ইয়ার লস না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তটা বদলাও। যারা বুয়েট ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হবা বা হয়েছো, তারা ঢাকা ভার্সিটির জন্য প্রিপারেশন নাও। আর, যারা ঢাকা ভার্সিটি মিস করবা বা করছো, তারা অন্যান্য ভার্সিটির জন্য প্রিপারেশন নাও।
তাহলে, তোমার সফলতাটা কিন্তু বেড়ে
যাবে। বহন করতে হবে না ব্যর্থতার
গ্লানি।

আমার কাছে অবশ্য সেকেন্ড টাইমাররাই বেশি প্রিয়। ভাই, তোরা যারা সেকেন্ড টাইমার আছিস তারা, সময় নষ্ট না করে মন প্রাণ দিয়ে চেস্টা কর। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা আর, নিজের উপর পূর্ণ বিশ্ববাস রেখে লক্ষ্য পুরণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যা, সফল তোরা হইবিই হইবি। একটা কথা মনে রাখিস, আল্লাহ তোর কপালে যা লিখে রাখছে তা থেকে কেউ তোকে আটকাতে পারবে না। মহান আল্লাহ তাওয়ালা কারও প্রতি অবিচার করেন না।

-Md. Nazmul Haque, NSTU.

একটা কথার জন্যেই মনে হয় এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি

একটা কথার জন্যেই মনে হয় এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি। “আল্লাহ যা করে, ভালোর জন্যেই করে”।
আসলে এই কথাটার সাথে শুধু ধর্মের বিশ্বাসই
নেই, এতে মিশে আছে সফলতা নামক এক কঠোর মন্ত্রও। এই কথাটা যদি কেউ বিশ্বাস না
করতো, তাহলে মনে হয় না সে বেঁচে থাকতে
পারতো। মানুষের জীবনে চলার পথে বাধা-বিপত্তি
না আসলে, বাস্তবতার সাথে যেমন পরিচিত হওয়া যায় না, তেমনি “সফলতা” নামক সিড়িতে পা রাখলেও তার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করা যায় না। সুইডেনের এক স্কুল ছাত্রকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল এই জন্য যে, তার স্মৃতি শক্তি অত্যধিক দুর্বল!! এই ছেলেকে দিয়ে জীববিজ্ঞানের মতো vital subject পড়া সম্ভব না। তাকে অন্য বিষয় পড়তে দেয়া হোক যেটা তার জন্য সোজা। পরবর্তীকালে ইনিই হয়েছিলেন দ্বিপদ নামকরনের জনক !! বিশ্ব তাকে চেনে বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস নামে !! মাইক্রসফটের প্রতিষ্টাতা বিল গেটসের নাম
সবারই জানা। কলেজের এক পরীক্ষায় তার বন্ধু
সকল সাবজেক্টে পাশ করেছিল, আর বিল গেটস
এক সাবজেক্টে ফেল করেছিলো। কিন্তু, তার বন্ধু
এখন একজন ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিয়ার, আর বিল গেটস সফটওয়্যার কোম্পানির মালিক। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচেই শুন্য রানে আউট
হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, এখন তিনিই ক্রিকেট
বিশ্বের লিটল মাস্টার খ্যাত, নাম তার শচীন রমেশ টেন্ডুলকার!!! বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা, টেস্ট ও ওয়ানডে দুইটাতেই যার ব্যাটিং গড় ৪৫ এর উপরে, সেই কিউই বব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসনের ক্যারিয়ারও কিন্তু শুরু হয়েছিলো শুন্য দিয়ে।ডেল কার্নেগীকে বলা হয় সর্বকালের সেরা বক্তা !তার কাহিনীটা জানা আছে কারো?। শুনুন তাহলে … জীবনে প্রথমবারের মতো ডেল কার্নেগী যখন মঞ্চে উঠে সবার সামনে ভাষণ দিতে শুরু করলেন তখন অডিয়েন্স তার দিকে ডিম ছুড়ে মেরেছিল । সেদিন ২ মিনিটের বেশি মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন নি । ব্যাপারটা কার্নেগী মেনে নিতে পারেন নি । এরপর থেকে তিনি ভাষণ দেয়ার অনুশীলন শুরু করলেন । যেখানে সেখানে গিয়ে ভাষণ দিতেন । রাতের বেলা নির্জন ল্যাম্প পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতেন । ফাঁকা হল রুমে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একা একা কথা বলে যেতেন । তার পরের গল্পে ডেল কার্নেগীকে আমরা সবাই চিনি। ইতিহাস ঘাটলে এরকম হাজার হাজার দৃষ্টান্ত চোখে পড়বে। প্রশ্ন আসতে পারে, এই দৃষ্টান্তগুলো আবার কতটুকু সত্য??? এগুলো সত্য কি মিথ্যা, সেটা বুঝতে হলে নিজেকে দিয়ে প্রমাণ করাতে দেখতে পারো।। মনে কিছু নেওয়ার দরকার নেই, কলামের শুরুতেই একটা কথা বলেছিলাম, “আল্লাহ যা করে, ভালোর জন্যেই করে”। আরও একটা কথা আছে, “ব্যার্থতাই সাফল্যের সোপান”। ও হ্যা, আরেকটি কথা বলি, সফলতার পিছনে মানুষের মেধার কোন দাম নেই। এর পিছনে পরিশ্রম আর ভাগ্যোই সব। তাই, নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করুন, ইন-শাহ-আল্লাহ, সফলতা আসবেই। একটা কথা আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত, “আল্লাহ তাওয়ালা কারও সাথে অবিচার করেন না”।
তাই, যদি কারও কঠোর প্রচেষ্টা থাকে, স্বার্থক সে হবেই।

Md. Nazmul Haque, Noakhali Science & Technelogy University. Mobile: 01737-101388 Email: nazmulhaque.120413@gmail.com Facebook: www.facebook.com/nazmul120413

Md. Nazmul Haque,
Noakhali Science & Technelogy University.
Mobile: 01737-101388
Email: nazmulhaque.120413@gmail.com
Facebook: http://www.facebook.com/nazmul120413

স্বপ্ন ও আমি

সপ্ন ছিল আকাশ ছোয়া , ভেবেছিলাম যেভাবেই হোক জিপিএ -৫ আসবে । তাই ,উদ্ভাসের প্রতিটি ক্লাস খুব মনোযোগ দিয়ে করতাম ।
কিন্তু না রেজাল্টে আসল জিপিএ-৪.৪০ । মাথায় রীতিমত আকাশ ভেঙ্গে পড়ল । হতাশ হয়ে পড়েছিলাম খুব । সিদ্ধান্ত নিলাম ,আমার যে অপসনগুলো অবশিষ্ট আছে , তাতে নিজের সব চেষ্টা উজাড় করে দিব । খুবই অল্প সময়ই পেয়েছি ঢাবির জন্যে প্রস্তুতি নিতে, যার দরুণ ঢাবিতে আসে নি । তখন মনে হচ্ছিল সময় ,পরিবেশ , পরিবার সবই যেন আমার প্রতিকূলে । সুইসাইড এর চিন্তা বহুবার এসেছি ,সবসময় নিজেকে সাত্ত্বণা দিয়েছি এই মনে করে যে ,আমাকে এর শেষটা দেখে নিতেই হবে । আল্লাহর অশেষ রহমতে চবির ‘ল তে চান্স পেয়ে যাই । অবশেষে একটা কথাই বলব নবীনদের জন্যে , কখনোই হাল ছাড়া যাবে না । বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া অনেকাংশে নিভর করে অন্যের সাথে প্রতিযোগীতায় নয় ,বরং নিজের সাথে তুমি কতখানি পেরে উঠছ তার ওপর ।

হাসান সাকিল
চবি (Department OF Law,23 rd Batch) .

মায়ের জন্যে চান্স পেতে হবে

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য কিছু কথা

অনেকেই বলেছ পড়তে গেলে বেশীক্ষন পড়তে পারিনা, পড়ায় মন বসে না। কি করবো?

উত্তরঃ যারা পড়ালেখায় মন দিতে পারছো না, তাদের বলবো যখন আর পড়তে ইচ্ছে হবে না বা পড়ায় মন বসবে না তখন চুপচাপ তোমার মায়ের পাশে গিয়ে বসবে। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো তোমার জন্য ঐ চোখে কত স্বপ্ন(!) পারবে কি মায়ের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিতে? তোমার জন্য নাই হোক, তোমার মায়ের জন্য তোমাকে চান্স পেতেই হবে

যেদিন ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম, মা কেদেছিল, এই কান্না আনন্দের, গর্বের। তুমি সেদিন বুঝবে কষ্ট স্বার্থক হবার আনন্দ কতটুকু(?)

কষ্ট করে যাও, যখন সফল হবে তখনই বুঝবে সেই আনন্দ কি পরিমান হতে পারে। আমরা আছি তোমাদের অপেক্ষায়..…..…..…..

 

Written By: Mohammad Imran Hosen Shovo

Directorবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ও সহযোগীতা কেন্দ্র

পরাজয়ের পরই জয় আসবে

আমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা রেজাল্ট এর সময় ভালো প্যাঁচে পড়ছিলাম। রেজাল্ট দেয়ার পর হঠাৎ করে দেখলাম আমাদের
ব্যাচের সবচেয়ে বাজে ছাত্র
রাফি দৌড় দিয়ে পুকুরে লাফ মারলো।
সবাই ভাবছে, সে ফেল মারছে, এই জন্য
আত্মহত্যা করার জন্য লাফ দিছে, সবাই “ধর
ধর” করে উঠল।
একটু পরেই সে পানির নিচ
থেকে মাথা বের করলো,মুখ
থেকে ফিচ
করে পানি বের করে বললো,
“এ মাইনাস পাইয়া গেছিরে মামুরা”
আমার রেজাল্ট তখনও দেখি নাই ,এর
মধ্যে একজন এসে আমারে বলল,”দোস্ত,
তুই ফেইল মারছস”।
রেজাল্ট শুনে আমারও পুকুরে লাফ
মারতে মন চাইতেছিল কিন্তু সাঁতার
না জানার কারনে ওই রিস্ক আর নেই
নাই। ভাগ্যিস লাফ দেই নাই , কারন
পরে দেখলাম বেশ সম্মানের সাথেই
পাশ করছি


গতবার এইচ.এস.সি রেজাল্ট বের হওয়ার
পরে তিনজনরে জিগ্যেস করছিলাম
রেজাল্ট কি হইছে, একজন মুখ
গোমড়া কইরা বলছে গোল্ডেন
পাইছি কিন্তু এখন কি হবে বুঝতেছি না ,
আরেকজন
কাইন্দা কাইন্দা বলছে,

“সামান্যর জন্য গোল্ডেন মিস হইছে,
আমি শেষ , লাইফে আর কিছু হইবো না”।
আরেক ছোট ভাইরে জিগ্যেস করলাম,
“কিরে তোর কি অবস্থা?”
সে দাঁত কেলায়ে উত্তর দিল,”কোনও
রকমে পাশ কইরা ফেলছি , বি পাইছি”
আমিঃ মানুষ এ প্লাস পাইয়া কান্দে,
তোর
বি পাইয়া এত খুশী লাগতেছে কেন
বুঝলাম না ?
ছোট ভাইঃ আমাদের গ্রুপে সবাই এ
প্লাস , একমাত্র আমি বি পাইছি ,
আমি ওয়ান পিস মাল, বাসায় যাইয়েন
ভাই , মিষ্টি খাওয়ামু।
এটাই মনেহয় জীবন , কেউ
সেরাটা হাতে পেয়েও হতাশ
হয়ে থাকে , অথচ কেউ সামান্য কিছু
হাতে নিয়ে জীবনের সাথে যুদ্ধ
করে সেরাদের
সেরা হয়।
…কোথায় যেন শুনছিলাম, কেউ একজন
বলছিল;

“প্রতিটা পরাজয়ের পর একটা জয় আসে,
আমি সেই জয়ের জন্য অপেক্ষা করবো,
যদি আসতে দেরী হয় ,
তাও অপেক্ষা করবো কারন
আমি জানি জয় আসবেই”
:- Moyla baba

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি হবে

“জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলাপাইন আর কি করবে, ওরা পুরাই ব্যাকডেটেড।”

”এইসব মুরগীর ফার্মের মত তৃতীয় সারির প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে আবার ক্যারিয়ার?”

“কলেজ থেকে অনার্স করে আবার ভাল চাকুরী? পাশ করে বের হতে পারাটাই তো এক যুগের ব্যাপার।”

“যেখানে পাবলিক ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদেরই চাকুরী নাই সেখানে ন্যাশনালের ওরা আর কি করবে।”

“পাবলিক ভার্সিটি, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে চান্স পাও নাই? তোমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ।”

কথাগুলো আমাদের সমাজে মোটামুটি খুব জনপ্রিয়। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী এবং যারা ভর্তি পরীক্ষার্থী, তাদের এইগুলো প্রায়ই শুনতে হয়। বিশেষ করে কোথাও চান্স না পেলে এবং নামীদামী প্রাইভেটে পরার সামর্থ্য না থাকলে কেউ যখন ন্যাশনালে পড়ার জন্যই বাধ্য তখন তার সামনে এই কথাগুলো আরো বেশী শোনানো হয়।

কিছু মানুষ দেখি যাদের মেন্টালিটি এমন, মনে হয় যেন ন্যাশনালে যারা পড়ে তারা মুর্খ। কিছু কিছু ন্যাশনালের স্টুডেন্ট ও নিজেকে ন্যাশনালের ছাত্রছাত্রী বলে পরিচয় দিতে হীনমন্যতায় ভুগে।
…ব্যাপারটা দুঃখ জনক।

আচ্ছা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি মানেই কি খারাপ? সেখানে যারা পড়ে তারা কি স্টুডেন্টের কাতারে পরে না? ওরা কি এসএসসি-এইচএসসি পাশ করে, ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ন্যাশনালে ভর্তি হয়নি?

…নাকি যারা এইচএসসি তে ফেইল করে শুধু তাদেরই ন্যাশনালে ভর্তি করানো হয়?

আচ্ছা একটা জিনিস ভাবুন তো-

ধরুন দুইটা ছেলে বা মেয়ে একটি পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিল যেখানে আসন সংখ্যা এক হাজার !
তারা দুজন একই কলেজ থেকে পাশ করা, দুজনই গোল্ডেন পাওয়া, দুজনই ভালোমতো প্রস্তুতি নিয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেল একজন ১০০০ তম আরেক জন ১০০১ তম।
হয়তো দুজনের ভর্তি পরীক্ষার স্কোরের ব্যাবধান একটি প্রশ্নের মানের সমান ও হবে না।

অর্থাৎ ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো, সকালেও যারা পরীক্ষার হলে দুজন সমকক্ষ বা প্রতিদন্দ্বি ছিল রাতে রেজাল্ট দেওয়ার পর তাদের একজন হয়ে গেল পাবলিক ভার্সিটির মেধাবী (!) ছাত্র আরেকজন ন্যাশনালের বা প্রাইভেটের থার্ড ক্লাস (!) ছাত্র। তাইনা?

…ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার সাথে সাথেই কি চান্স না পাওয়া ছাত্রটির সব মেধা হারিয়ে যায়? নাকি তার মেধাকে দমিয়ে রাখা হয় আমাদের নীচু মানের কথার আঘাতে। সবার বিবেকের কাছে প্রশ্ন রইলো।

আসলে মেধা কমে যায় না বরং মেধাকে বিকশিত হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে চান্স না পাওয়া ছাত্র ছাত্রীরা হতাশার কারণে নিজেই নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে জীবনের চরম ভুলটা করে।

…পাবলিক ভার্সিটির সাথে পার্থক্যটা এই জায়গায়ই থাকে, যেখানে ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত পড়াশুনার মধ্যে থাকে, ন্যাশনালের স্টুডেন্টরা তেমন না আর ওদের টাইম ডিউরেশনটা বেশি হওয়ার ফলে নিজের স্পৃহাটা ধরে রাখতে পারেনা আর পড়াশুনার প্রতি অবহেলা করে। সমস্যাটা জাস্ট এখানেই।
…………..
…………..

যেহেতু ন্যাশনালে পাশ করে বের হতে সময় বেশী লাগে তাই চাকুরীর প্রস্তুতি নেওয়ার সময়টাও বেশী পাওয়া যায়, তাই আমার বিশ্বাস ন্যাশনালের ছাত্রছাত্রীরা যদি ”কোথাও চান্স পাই নি” ভেবে নিজেকে ছোট মনে না করে,
”শুধু আসন সংখ্যার স্বল্পতায় আমার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভার্সিটি আমাকে রাখতে পারেনি তাই বলে আমি একেবারে ফেলনা না, সময় মত দেখিয়ে দিবো আমিও পারি” এই মানসিকতা নিয়ে ভর্তি পরীক্ষার আগে যেই স্পৃহা নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে সেভাবেই ভর্তির পর থেকেই নিজেকে তৈরী করে তাহলে ওরাও কোথাও ঠেকবে না এটা নিশ্চিত।

কারন,
…আমি দেখেছি যেখানে বুয়েট থেকে পাশ করেও বিসিএস দিয়ে ব্যার্থ হয় সেখানে বগুড়ার ”আজিজুল হক কলেজ” থেকে বিসিএস এ ফার্স্ট হয়।

…আমি দেখেছি যেখানে পাবলিকের স্টুডেন্ট বেকার ঘুরে সেখানে ন্যাশনালের স্টুডেন্ট সরকারী ব্যাংকে চাকুরি পায়।

বিশ্বাস না হলে বাংলাদেশের প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী কোম্পানি ও ব্যাংক গুলোতে খবর নিয়ে দেখ। সেখানে ভাল ভাল পদে ন্যাশনালের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিমানটা দেখে হয়তো অবাক হয়ে যাবে।

…আচ্ছা বাংলাদেশে পাবলিক ভার্সিটির গুলোর আসন তো মাত্র কয়েক হাজার কিন্তু ভাল চাকুরীর পদসংখ্যা এর কয়েক গুন বেশী তাহলে এ বাকি পদ গুলোতে কারা কাজ করবে?
তার মানে বুঝাই যায় যে পাবলিকে বা মেডিকেলে পড়লেই চাকুরী হবে আর বাকিরা ঘাস কাটবে, ব্যাপারটা মোটেও তেমন না।

একটা জিনিস দেখ… কয়েকদিন আগেও সবাই জিজ্ঞাস করতো “রেজাল্ট কি?” এখন জিজ্ঞাস করে? করেনা। এখন জানতে চায় “কোথায় চান্স পাইছো।”
তেমনি কয়েক বছর পর জিজ্ঞাস করবে “কি চাকুরী কর?”
কোথা থেকে পাশ করেছে এইটাও খুব একটা বিবেচ্য বিষয় হবে না।

এমনকি বিয়ের সময় ও যদি কেউ পাবলিকে পড়ে বেকার থাকে আর কেউ ন্যাশনালে পড়ে বিসিএস ক্যাডার হয়। নিশ্চিত করেই বলা যায় বিয়ের বাজারে ন্যাশনালে পড়া বিসিএস ক্যাডারের মূল্যই বেশি থাকবে।
……………
……………

তাই কোথাও চান্স না পাওয়া ছোট ভাই-বোনেরা ভেঙ্গে না পরে নিজেকে উজ্জীবিত কর। তোমার ভার্সিটির সুনামে তুমি কেন চলবে বরং তোমার নিজের কারণে তোমার সাধারণ কলেজটিকেই পরিচিতি লাভ করাবে।

নিজেকে অবহেলা কর না। নিজেকে যদি নিজেই সম্মান দিতে না জান তাহলে অন্যের কাছে দাম পাবে না।

…হ্যা পিছনে টেনে রাখার মত কথা বলার অনেক মানুষই পাবে, তাই বলে সেগুলো কেয়ার করবে না!

এখন যে যা বলে বলুক, কর্ণপাত না করে নিজের অবস্থান থেকেই চুড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও এবং দেখিয়ে দাও আর যারা কিছু বলে তাদের বলে দাও-

”Keep calm and let me run according to my way, you don’t have to think about me. Just oil your own machine now.
I know well about my potential and i’ll show my excellence at the ultimate time.”

…দেখা হবে বিজয়ে।
গুটিয়ে নয়, চুটিয়ে বাঁচো।

নাজমুল, JU

Adminবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ও সহযোগীতা কেন্দ্র

কোচিং না করেও সিএসই পড়ছি

আমার জীবনের একটি ঘটনা শেয়ার করব যা আমার জীবন টা পরিবর্তন করে দিয়েছে …
এখন শোন……
আমার যখন এস এস সি পরীক্ষা রেজাল্ট দিয়েছিল তখন আমি পাই 4.75
খুব আপসেট হইয়া যাই ॥
তখন আমার মা আমাকে উৎসাহ দিয়ে ছিল যে পারব জীবন যুদ্ধে যাই হোক ।

এইচএসসি পরীক্ষা আসল মায়ের দোয়া ও উৎসাহ সাথেই আছে ।
অবশেষে এইচএসসি তে Gpa-5.00 পাই ॥
তখন আমি কোচিং করব সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণ তা হয়ে উঠেনি ।
মা বলেছেন আমি পারব আমাকে
তুমি কোচিং না করে দেখিয়ে দাও গরিব রাও পারে ॥
তারপর ভর্তি পরীক্ষা আসল
আমি গভীর আত্ম বিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দিলাম তিনটি university তে পরীক্ষা দিলাম দুইটাতেই টিকলাম । chittagong university তে পরিসংখ্যান পাইলাম আর জবি তে পাইলাম computer science & engineering.
আমার সাফল্যে আমার মায়ের খুশি কে দেখে?????
এখন যদি আমার মা রাস্তা দিয়ে যায় লোকেরা বলে দেখ Engineer রের মা যাচ্ছে ।

তখন খুশি হইয়া মা আমাকে ফোন দিয়ে বলে লোকেরা এসব কী বলে রে বাজান?????
আমি বললাম মা আর কয়েক বছর অপেক্ষা করো
তাও হবে ।
আমার এটি শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো কোচিং না করেও জীবনে
অর্জন করা যায় ॥
আর মায়ের উপর আত্ম বিশ্বাস রাখো দেখবে জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি ॥
আমার মায়ের জন্যই এই পর্যন্ত আসা ।

মোঃ মোজাম্মেল হক,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, (CSE).

কম জিপিএ নিয়েও কি আমার চান্স হবে

উত্তরঃ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ এর গুরুত্ব আছে। তাই বলে জিপিএ এ সব না। অনেক কম জিপিএ নিয়েও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

কিভাবে? তোমার জিপিএ যতই ভাল হোকনা কেন, পরীক্ষার ১ ঘন্টা কাজে লাগাতে না পারলে জিপিএ দিয়ে কিচ্ছু হবে। তোমরা জেনে খুশি হবা যে আমাদের এই পেইজ থেকে অনুপ্রানিত হয়ে ২০১৩-১৪ সেশনে ২৭ জন শিক্ষার্থী কম জিপিএ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাবি’তে ৬ জন, চবি’তে ১১ জন, রাবি’তে ২ জন, জাবি’তে ৩ জন, জবি’তে ৫ জন চান্স পেয়েছে।

অনেকে গোল্ডেন ৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না। কারণ মনের মধ্যে একটা অহংকার থাকে যে, আমি তো চান্স পাবই। কথাটা ঠিক না, গোল্ডেন পেয়েও অনেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রী পড়ছে। তাই বলবো মনে কোনোরূপ অহংকার না রেখে মন দিয়ে পড়াশোনা করো আর পরীক্ষার ১ টা ঘন্টা কাজে লাগাও। চান্স পেতে তোমার কোনো অসুবিধা হবে না

 

Written by: Shovo

আমরাও পারি

পলিটেকনিকে পড়ুয়া এক ছেলে হাওয়ায় চালিত মোটর সাইকেল আবিস্কার করে । এটা জানার পর আমার বুয়েট পড়ুয়া বন্ধুর মন্তব্য , “” পত্রিকা গুলা আছেই ,এইসব ছোট খাট বিষয় নিয়ে মেতে থাকতে । এ আর এমন কি ?? আবিস্কার করে উল্টায় ফেলছে নাকি ??””
আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম “” লাস্ট ১ বছরে ,তোমার অর্জন কি ?? সে না হয় ছোট খাটো একটা ঘোড়ার ডিম বানিয়েছে । আমি তোমার থেকে হাতির ডিম দেখার আশা রেখেছিলাম । সেটা হয় নাই । উল্টা তুমি তাকে ব্লেইম করছো । কাহিনীটা কি ?? “”
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্ঞানী এবং কর্মঠ মানুষের কোন কদর হয় না । কথাটা শুধু এই বুয়েটিয়ানের জন্য নয় । ঢাবি ,রাবি ,চবি ,জাবি ,জবি ,সবার জন্যই প্রযোজ্য । প্রতিটা ক্যাম্পাসে এই ধরনের কিছু মানুষ থাকে যারা কিনা ব্র্যান্ডের নাম ইউজ করে আরেক জনকে হেয় করে । আচ্ছা ,কেন এমন করে সেটা কি বলতে পারেন ??
আমি বলছি ,এই কাহিনীটা খুব সিম্পল । বাংলাদেশর সেরা জায়গায় থেকে সে ভালো কিছু করে দেখাতে পারে নাই ,কিন্তু এই ছেলেটা পলিটেকনিকে পড়েই নিজ মেধার গুনে সফল হয়েছে । এটাই তার খারাপ লেগেছে । তার জায়গা থেকে চিন্তা করে দেখেন ,তাহলেই বুঝতে পারবেন । খুব কম ক্ষেত্রেই ক্লাসের ফাস্ট বয় এটা মেনে নেয় ,যে ওই ক্লাসের লাস্ট বয় তাকে ডিঙিয়ে highest মার্ক পেয়েছে ।
সকল বুয়েটিয়ান ,ঢাবিইয়ান ,চবিয়ান ,রাবিয়ান ,জাবিয়ান কিন্তু এমন নয় । তারা সবাই বিষয়টা স্বাগত জানাবে । কিন্তু ২/৪ টা থাকবে ,যারা বেকে বসবে সব কিছুতে । তাদের কথা হচ্ছে , দুনিয়ার তাবত ভালো কাজ এবং যোগ্যতার দাবীদার শুধু আমি । আর কেউ নয় । খুব ভুল ধারনা । এটাই যখন কেউ ভুল প্রমান করে দেখায় ,তখন তার উপর খুব রাগ হয় ।
ফ্রেন্ডলিস্টে অ্যাড করার আগে সাধারনত আমি মানুষের পরিচয় ( যদি hide করা থাকে ) জানার চেষ্টা করি । এই চেষ্টা করতে গিয়েই একদিন ভালো ধরনের একটা ধাক্কা খেলাম । এক ছোট ভাই বলছে , “” ভাইয়া , আমি কোথাও চান্স পাই নাই । জাতীয়তে ভর্তি হইসি । আপনাকে কি করে বলবো আমার ক্যাম্পাসের নাম ?? বলার মতো মুখ নাই “”
কথাটা শুনতে কেমন লাগে ? মুখ নাই কেন রে ?? জাতীয়তে পড়লে কি মানুষ জন্তু হয় নাকি ?? কিংবা পাবলিকে পড়লে বিরাট হনু হয় রে ?? জানতাম না তো ?? তুমি কি দেশকে কিছু দিতে চাও ?? ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে ?? উত্তরটা যদি হয় ” হ্যা ,ভাই করতে চাই “” । তাহলে ব্যাটা কাজে নেমে পড় । যোগ্যতা নিয়ে চিন্তা করলে হবে না । ইচ্ছা থাকলে যোগ্যতা অটোমেটিক তৈরি হয়ে যায় । আগামীকাল সকাল থেকে যখন রাস্তায় বের হবা ,তখন মাথাটা নিচু করে নয় ,বরং উচু করে বের হবা । সবাইকে জানান দিবা তুমি একজন জাতীয় ইউনিভার্সিটির ছাত্র । লুকিয়ে রাখবা না । তোমার ইচ্ছাই তোমার পাথেয় ।
তুমি কোথাও চান্স পাও নাই । ভালো কথা । তুমি ব্যার্থ । সেটাও ঠিক । তবে আজীবনের জন্য তুমি ব্যার্থ নও । তুমি ব্যার্থ ছিলে পরীক্ষার ওই ১ টি ঘণ্টা । সেটাকে সারাজীবন টেনে নিয়ে যাওয়ার মানে কি ?? কোন দরকার নাই । do ur job …..
তুমি প্রাইভেটে পড়ো ?? বন্ধুরা বাকা ভাবে তাকায় ?? তারা বলছে ,সার্টিফিকেট কিনতে পাওয়া যায় প্রাইভেটে !! বাদ দাও তাদের কথা !! নিজের চিন্তাধারা কাজে প্রকাশ করো। মানুষ চুপ হয়ে যাবে । যারা ভালো ভালো পজিশনে থাকে তাদের মনটাও অনেক ভালো হয় । তোমার দুর্ভাগ্য ,তুমি কিছু narrow minded মানুষের দেখা পেয়েছ , যারা শুধু নিজেদের ক্যাম্পাসের ইতিহাস বর্ণনা করে গর্ব করতে পারে ,নিজেরা কিচ্ছু করতে পারে না । পারবে বলেও মনে হয় না । অতএব এদের কথা শুনে লাভ নাই ।
এগিয়ে যাও । ভালো কাজের মূল্য সর্বত্র আছে !! তখন ইতিহাস বর্ণনাকারীরা তোমার ইতিহাস বর্ণনা করবে । মনে থাকে যেন …

Written by : Amit Hasan